সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন রাঙামাটি জেলা শাখা ঈদ বস্ত্র বিতরণ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাঙামাটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর এলাকায় অবস্থিত স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ-১ এর অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে এই ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর সভাপতি এডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বৃহত্তর বনরুপা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দীন ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রবিউল আলম রবি।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্বপ্নযাত্রী রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি আহমেদ ইসতিয়াক আজাদ, এবং সঞ্চালনা করেন সহ-সভাপতি মোঃ আলাউদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, “সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য স্বপ্নযাত্রীর এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেওয়া হলেও, প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের উদ্যোগের জন্যই সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং চেম্বারের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকব।”
বিশেষ অতিথি মোঃ জসিম উদ্দীন বলেন, “স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশনের দেশব্যাপী কার্যক্রম দেখে আমরা আনন্দিত। রাঙামাটিতে এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে স্থানীয় সরকারের বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।”
সাবেক কাউন্সিলর রবিউল আলম রবি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি আহমেদ ইসতিয়াক আজাদ বলেন, “স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠসহ আমাদের সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবীদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে চলে। এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি বরাদ্দ বা সহায়তা পাইনি, যা আমাদের জন্য হতাশার। শান্তিনগরে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে, যদি স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠের জন্য জমির বরাদ্দ পাওয়া যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”
তিনি সমাজের বৃত্তবানদের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বপ্নযাত্রী রাঙামাটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম আরজু, ঈদ বস্ত্র বিতরণ উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা দপ্তর সম্পাদক মইনুদ্দিন মইন, অর্থ সম্পাদক প্রমিতা চৌধুরী, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শোয়েব খান ফাহিম, স্বেচ্ছাসেবী আব্দুর রাজ্জাক, তানিশা চৌধুরী, বর্ষা প্রমুখ।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে স্বপ্নযাত্রীর এ উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply