1. cbarta2025@gmail.com : C Barta : C Barta
  2. editor@cbarta.com : Reporter : Reporter
জুমের আগুনে পুড়ছে পাহাড়; ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে জীববৈচিত্র - C Barta
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১১:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জুমের আগুনে পুড়ছে পাহাড়; ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে জীববৈচিত্র রাঙামাটিতে ঈদ-ফিরতি যাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ অভিযান পাহাড়ে বন্ধ হবে এবার চাঁদাবাজি?— এক অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পার্বত্য জনপদ ভারতীয় মিডিয়া ওর্য়াল্ডের ভিতরে মিথ্যা বলার জন্য চ্যাম্পিয়ন—স্বরাষ্ট্র  উপদেষ্টা বাঘাইছড়িতে জামায়াতে বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোডাউন ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় নীল জল, সবুজ পাহাড়ের শহরে ঈদের খুশির জোয়ার পাহাড়ি সৌন্দর্যের মোহনায় আনন্দের আমন্ত্রণ রাঙামাটিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ ও অনিরাপদ পশুর মাংস! ক্ষুব্ধ বৈধ ব্যবসায়ীরা শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী যোগাশ্রম মন্দিরের কমিটির হিসাব সংক্রান্ত মন্তব্য প্রতিবেদন পার্বত্য উপদেষ্টার বৈষম্যমূলক বরাদ্দের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকা দাহ

জুমের আগুনে পুড়ছে পাহাড়; ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে জীববৈচিত্র

  • প্রকাশিত : শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মো, সোহরাওয়ার্দী সাব্বির

একটা সময় ছিল, যখন পাহাড় নিঃশব্দে নিঃশ্বাস নিত। বাতাসে ভেসে আসত বুনো ফুলের গন্ধ, দূরে কোথাও ডাক দিত পাহাড়ি ময়না, আর পাতার নিচে লুকিয়ে থাকত বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী কাঠবিড়ালি। আজ, সেই নিঃশ্বাস দগ্ধ হচ্ছে জুমের আগুনে।

এ যেন ধীরে ধীরে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুরো এক ভূখণ্ড। শুকনো পাতার ওপর ছড়িয়ে পড়া আগুন শুধু জমিকে প্রস্তুত করছে চাষের জন্য নয়, পুড়িয়ে দিচ্ছে শতাব্দীর জীববৈচিত্র্যের সব স্মৃতি।

জুম চাষ—যা একসময় পাহাড়ি জনজাতির জীবিকা ও সংস্কৃতির প্রতীক ছিল, এখন পরিণত হয়েছে দাউদাউ আগুনের উৎসে। অরণ্যের গভীরে একের পর এক আগুন লাগানো হচ্ছে জমি পরিষ্কারের নামে। কিন্তু সেই আগুনের শিখা থেমে থাকছে না নির্ধারিত সীমানায়—তার গন্তব্য অনিশ্চিত, এবং পরিণতি ভয়াবহ।

পাহাড়ের বুকজুড়ে এখন জ্বলন্ত ছাইয়ের গন্ধ। ধোঁয়ার আস্তরণে ঢেকে যাচ্ছে নীলাকাশ। পাখির ডানার ছায়া আর দেখা যায় না আগের মতো, আর হরিণ কিংবা বুনো মোরগেরা যেন হারিয়ে গেছে শব্দহীন কোনো ঘোরের মধ্যে। আগুনের আগ্রাসনে তারা হয়তো নিজ বাসস্থান ছেড়ে চিরতরে চলে গেছে—বা নিঃশ্বাস নিতে না পেরে থেমে গেছে গভীর বনে।

এই আগুন নিছক আগুন নয়—এ যেন একটি নির্জন গুমোট শোক। পুড়ে যাওয়া গাছের গায়ে ভেসে ওঠে বাঁচার আকুতি, আর নিঃশেষ হওয়া জীবপ্রজাতির হাহাকারে স্পষ্ট হয় আমাদের অবহেলার ইতিহাস।

এখন প্রশ্ন একটাই—এই আগুন কি শুধুই জমি পরিষ্কারের প্রয়োজন? নাকি এটি হয়ে উঠছে আমাদের অন্ধ লোভের প্রতিচ্ছবি?

জুম চাষের আগুনে পাহাড় হারাচ্ছে তার ছায়া, প্রাণ, আর শিকড়। এখনই যদি থামানো না যায়, পাহাড় একদিন শুধুই এক মৃতভূমি হয়ে উঠবে—যেখানে আগুনের ছাই ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
Copyright © C Barta
Theme Customized By BreakingNews