মো. সোহরাওয়ার্দী সাব্বির
রাঙ্গামাটিতে ৮৫ হাজারের অধিক শিশুকে আজ ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে । আগামী কাল ১৫ মার্চ শনিবার সারা দেশের ন্যায় রাঙ্গামাটি জেলায়ও দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৫। রাঙ্গামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা: নূয়েন খীসা জানান, রাঙ্গামাটি জেলায় ১২৩৮টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চলবে। স্থায়ী ও অস্থায়ী এসব টিকাদান কেন্দ্রে মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুদেরকে ভিটামিন ‘এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কাজে নিয়োজিত থাকবেন। রাঙ্গামাটির মানিকছড়ির একটি পাহাড়ি গ্রামে এবার শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচী শুরু করা হবে।
রাঙ্গামাটিতে ক্যাম্পেইন চলাকালীন ৬-১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে রাঙ্গামাটির বেশ কিছু দুর্গম পাহাড়ি এলাকার জন্য এ ক্যাম্পেইন এর পরবর্তী সময়েও বিশেষ কর্মসূচী চালানো হবে বলে জানান সিভিল সার্জন।
রাঙ্গামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা: নূয়েন খীসা জানান, আগে সমাজে রাতকানা রোগীর খবর পাওয়া যেত। এখন আর সেই অবস্থা নেই। এখন আর রাতকানা রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়না। জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্প্ইনের কল্যাণে এ সফলতা এসেছে। রাতকানা রোগ জাদুঘরে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি ।
সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইন সফল করতে হবে উল্লেখ করে সিভিল সার্জন ডা: নূয়েন খীসা বলেন, এ বয়সের কোন শিশু যাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়া থেকে বাদ না পড়ে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক থাকতে হবে।
তিনি বলেন,অসুস্থতার কারণে ৬-৫৯ মাস বয়সী কোন শিশু যদি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়া থেকে বাদ পড়ে তাকে সুস্থতা পরবর্তী এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটি পৌর এলাকাসহ জেলা পর্যায়ে ৬-৫৯ মাস বয়সী মোট ৮৫ হাজার ৮৮৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২-৫৯ বয়সী শিশু ৭৫ হাজার ৩২৩জন এবং ৬-১১মাস বয়সী শিশু ১০হাজার ৫৩৭ জনকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন , ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুর অপুষ্টি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত, হাম ও ডায়রিয়াজনিত মৃত্যুর হার হ্রাসসহ সকল ধরণের মৃত্যুর হার হ্রাস করে। পরিবারের রান্নায় ভিটাামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্য তেল ব্যবহার শিশুর জন্য যথেষ্ট উপকারী। মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য গর্র্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ খাবার খেতে দিতে হবে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে শিশুরা অপুষ্টিতে ভূগছে। শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি, রক্ত স্বল্পতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ‘এ’ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক অনুপুষ্টি। তাই এই ক্যাম্পেইন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপুষ্টি দূরীকরণ সম্ভব হবে। শিশুর জন্মের সাথে সাথে মায়ের বুকের শাল দুধ খাওয়াতে হবে এবং ৬ মাস পর্যন্ত বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু দেয়া যাবে না। শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমানমত ঘরে তৈরি পুষ্টি সমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়াতে হবে তিনি জানান ।
Leave a Reply