সাংবাদিক সৈকতের মুক্তির দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ন, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১:০৫ পূর্বাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬


রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয় না জানিয়ে একজন পেশাদার সাংবাদিককে হঠাৎ তুলে নেওয়ার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা অবিলম্বে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর মুক্তি এবং সাংবাদিকদের জন্য ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে সংহতি জানান।

মানববন্ধনে রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি রাঙামাটি জেলা সভাপতি সমীর কান্তি দে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা কমিটির সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ার, রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াস, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সোহাগ আরেফিন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাঙামাটি জেলার সহ-সভাপতি আশীষ কুমার বড়ুয়া, যুব ইউনিয়ন জেলা কমিটির সভাপতি মিল্টন বিশ্বাস, বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সনৎ কান্তি বড়ুয়া, রাঙামাটি সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নন্দন দেবনাথসহ সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন রাঙামাটি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিশু দে। এতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাঙামাটি জেলা ইউনিট ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ সংহতি জানায়।

বক্তারা বলেন, সৈকত রঞ্জন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সামনে থেকে তাকে হঠাৎ নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় তার অবস্থান ও আটকের কারণ সম্পর্কে সাংবাদিক সহকর্মীরা স্পষ্টভাবে জানতে পারেননি। পরে পুলিশ সুপারের মাধ্যমে তিনি ডিবির হেফাজতে রয়েছেন বলে জানতে পারেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, সৈকত রঞ্জনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে তাকে প্রকাশ্য স্থান থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, একজন সাংবাদিকের আইনগত অবস্থান ও আটকের কারণ সম্পর্কে স্বচ্ছতা না থাকলে তা শুধু ওই সাংবাদিকের বিষয় হয়ে থাকে না; এর প্রভাব পড়ে সামগ্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশের ওপর।

বক্তারা আরও বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিককে এভাবে তুলে নেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ‘২৪ পরবর্তী’ সময়ে মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও এমন ঘটনায় সেই প্রত্যাশা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

তারা বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সামনে সত্য ও জনস্বার্থের তথ্য তুলে ধরা। সাংবাদিকতার কারণে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি, ভয়ভীতি বা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না। একই সঙ্গে তারা বলেন, কারও বিরুদ্ধে আইনগত অভিযোগ থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তা মোকাবিলা করা উচিত।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি, তার আটকের বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ এবং রাঙামাটিতে সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ, স্বাধীন ও ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, সৈকত রঞ্জনের মুক্তির দাবিটি কোনো ব্যক্তি বিশেষের বিষয় নয়; এটি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বিষয়টির দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধান প্রত্যাশা করেন তারা।