দুর্গম লংগদুতে চোখের আলো ফেরানোর উদ্যোগ, সেনাবাহিনীর চক্ষু ক্যাম্পে ৭০০ রোগী

তারিকুল তারা ( লংগদু)
তারিকুল তারা ( লংগদু) তারিকুল তারা ( লংগদু)
প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, ০৯ অগাস্ট ২০২৬


দুর্গম পাহাড়ি জনপদের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে রাঙামাটির লংগদুতে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে প্রায় ৭০০ রোগীকে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০০ রোগীর মধ্যে বিনামূল্যে চশমা বিতরণ করা হয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) লংগদু বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন লংগদু জোনের উদ্যোগে এ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লংগদু জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর মোর্শেদ, এসপিপি, পিএসসি।

দুর্গম এলাকা থেকে সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ চিকিৎসাসেবা নিতে ক্যাম্পে আসেন। অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞরা তাদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেন। চোখের বিভিন্ন জটিলতা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ও ছানিপড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদেরও শনাক্ত করা হয়।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে এমন ১৭৫ জনকে চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে। এসব রোগীর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের যাবতীয় ব্যয় লংগদু জোন বহন করবে বলে জানানো হয়। ফলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও দুর্গম এলাকার এসব রোগীর জন্য উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়া অনেকের জন্যই কঠিন। বিশেষ করে চোখের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার জন্য দূরের শহরে যাওয়া অনেক পরিবারের পক্ষেই ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। এমন পরিস্থিতিতে নিজ এলাকায় বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, ওষুধ ও চশমা পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন।

ক্যাম্পে রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং পোর্ট সিটি, রোটারাক্ট ক্লাব অব চিটাগাং লেক সিটি, চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশন এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং প্রোগ্রেসিভ সাউথ সহযোগিতা করে।

আয়োজকেরা বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এ ধরনের কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আস্থা, সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চক্ষু ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিনামূল্যে চশমা ও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ায় দুর্গম এলাকার অসচ্ছল মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্যোগ।