নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণে রাঙ্গামাটিতে মতবিনিময় কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:১৫ অপরাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩:০০ পূর্বাহ্ন, ২৯ জুলাই ২০২৬

 পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল (Climate Resilient) পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রাঙ্গামাটিতে এক মতবিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাঙ্গামাটি সদরের ASHIKA Development Associates-এর হলরুমে "Sharing Workshop with DPHE on Water Provisions and Sanitation in CHT" শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে Friends in Village Development Bangladesh (FIVDB)। Helen Keller International-এর আর্থিক সহযোগিতায় এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE)-এর সমন্বয়ে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

FIVDB-এর ওয়াশ ম্যানেজার রনধীর দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সুব্রত বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ASHIKA Development Associates-এর নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা। এছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী ও সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

কর্মশালায় পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন, টেকসই পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ১০টি উপজেলায় প্রতি উপজেলায় দুটি করে মোট ২০টি নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্মাণ অথবা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৩৬টি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা যার মধ্যে পারিবারিক ল্যাট্রিন ও হাত ধোয়ার স্টেশন রয়েছে নির্মাণ বা পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধার প্রাপ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

পানি সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্থাপনার জন্য ২০টি করে পানি উৎস ব্যবস্থাপনা কমিটি (Source Management Committee) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি কমিটির জন্য ৩০ হাজার টাকা করে রিজার্ভ ফান্ড গঠনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়, যাতে স্থানীয় পর্যায়েই ক্ষুদ্র মেরামত, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

কর্মশালায় FIVDB-এর WASH Specialist মোহাম্মদ আতিকুর রহমান টেকসই, ব্যয়-সাশ্রয়ী (Cost-effective) ও উদ্ভাবনী (Innovative) পানি ও স্যানিটেশন প্রযুক্তি নিয়ে কারিগরি উপস্থাপনা করেন। তিনি পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা, জলবায়ুগত ঝুঁকি এবং স্থানীয় জনগণের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম, সৌরচালিত গভীর নলকূপ, রিংওয়েল, স্প্রিংভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব স্যানিটেশন প্রযুক্তির নকশা ও কার্যকারিতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্ভাবনী ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সীমিত ব্যয়ে অধিকসংখ্যক মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কর্মশালায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE) বাস্তবায়িত পানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়মিত পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য নয়; পুষ্টি, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE), FIVDB, Helen Keller International এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবার পরিধি সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।