প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সাজেকে সেনাবাহিনীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮:২২ অপরাহ্ন, ২৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, ২৫ জুন ২০২৬


“শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন” এই মূলনীতি ধারণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নং সাজেক ইউনিয়নের সাজেক পর্যটন এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ সভায় সাজেক পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ী, রিসোর্ট মালিক ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে বর্জ্য সংরক্ষণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং পর্যটন এলাকাকে প্লাস্টিকমুক্ত রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পর্যটন এলাকার পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় আবর্জনা, পচনশীল দ্রব্য ও প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো,

১. প্রতিটি দোকান, রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্টের সামনে দুটি করে ডাস্টবিন রাখতে হবে। একটি ডাস্টবিনে প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য এবং অন্যটিতে পচনশীল বর্জ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

২. নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও ময়লা-আবর্জনা ও বোতল ফেলা যাবে না।

৩. প্রতি বুধবার বিকেল ৩টা থেকে কংলাক হতে সাজেক পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে।

৪. প্রতিটি দোকান, রেস্টুরেন্ট ও কটেজ/রিসোর্ট থেকে একজন করে প্রতিনিধি বাধ্যতামূলকভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণ করবেন।

৫. সাজেক ভ্যালি এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য শোধনাগারের ব্যবস্থা না থাকায়, সকল প্লাস্টিক বর্জ্য শোধনের জন্য সাজেক টিওবি’র ক্যাম্প কমান্ডারের তত্ত্বাবধানে বাঘাইহাট জোনের মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে পাঠানো হবে।

সভায় উপস্থিত সবাই সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচালিত এ ধরনের কার্যক্রমকে সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।