২০১৩ সালে সিলগালা, তবু চলছে ব্যবসা! রাঙামাটির রিজার্ভ বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ঘিরে প্রশ্নের পর প্রশ্ন; জননিরাপত্তার চেয়ে কি প্রভাবশালীদের স্বার্থই বড়?
রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারে হোটেল প্রবাসীর পাশের একটি ভবন প্রায় এক যুগ আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সিলগালা করেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবি, ২০১৩ সালে ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় জননিরাপত্তার স্বার্থে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেই নিষেধাজ্ঞা যেন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পরিত্যক্ত ঘোষিত সেই ভবনের নিচতলায় এখনো নুর টেলিকম নামে মোবাইল সার্ভিসিং প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। প্রতিদিন সেখানে কর্মচারী, গ্রাহক ও বিভিন্ন যানবাহনের যাতায়াত অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো তদারকি বা হস্তক্ষেপ চোখে পড়েনি।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, যে ভবনকে জনজীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সিলগালা করা হয়েছিল, সেটি কীভাবে এখনো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে? ভবনটি যদি নিরাপদ হয়ে থাকে, তাহলে কারিগরি পরীক্ষার প্রতিবেদন, নিরাপত্তা সনদ কিংবা পুনরায় ব্যবহারের সরকারি অনুমোদন কোথায়? আর যদি নিরাপদ না হয়ে থাকে, তাহলে কার প্রভাব বা কোন অদৃশ্য ছত্রছায়ায় সেখানে ব্যবসা চলতে দেওয়া হচ্ছে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ব্যবহার হলেও সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের আশঙ্কা, কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগে প্রশাসনের এই নীরবতা ভাঙবে কি?
নগর পরিকল্পনা ও ভবন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ বা পরিত্যক্ত ঘোষিত কোনো ভবন পুনরায় ব্যবহার করতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে কারিগরি পরীক্ষা, কাঠামোগত নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন। এসব ছাড়া ভবন ব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে এ বিষয়ে ভবনের মালিকপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন।তাদের দাবি, ভবনটি সিলগালার পর থেকে কোনো ধরনের কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা সনদ বা পুনরায় ব্যবহারের অনুমোদন তারা পাননি। ভবনটির অধিকাংশ অংশ এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং কোথাও ভাড়া দেওয়া হয়নি। কেবল নিচতলার একটি দোকান আগে থেকেই ভাড়ায় থাকায় সেটি এখনো চালু আছে। তাদের ভাষ্য, ভাড়াটিয়া ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত থেকেই সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, কোনো ভবন যদি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ এবং পরিত্যক্ত হিসেবেই বিবেচিত হয়, তাহলে সেখানে একজন ভাড়াটিয়া থাকলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম কীভাবে চলতে পারে? জননিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে জেনেও একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া কতটা আইনসঙ্গত, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
এ ঘটনায় রাঙামাটি পৌরসভা, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, দুর্ঘটনার পর দায়ী ব্যক্তি খোঁজার চেয়ে দুর্ঘটনা ঘটার আগেই আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এক যুগ আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা ভবনটি যদি আজও ঝুঁকিপূর্ণই থাকে, তাহলে সেখানে চলমান বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের নীরবতা এবং দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।