এ বছর রমজান ২৯ না ৩০ দিন, সর্বোচ্চ রোজা ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট
জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা অনুযায়ী, এ বছর মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র রমজান মাস শুরুর তারিখে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। খালি চোখে চাঁদ দেখা ও গাণিতিক হিসাবের পার্থক্যের কারণে কোনো দেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি, আবার কোথাও ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য এবং এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, রমজান শুরুর তারিখে মতভেদ থাকলেও মাস শেষে পবিত্র শাওয়ালের চাঁদ দেখা এবং ঈদুল ফিতরের সময় অধিকাংশ মুসলিম দেশে একই হতে পারে। তার মতে, আগামী ২০ মার্চের দিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এমারাত আল ইউম-এর বরাতে আল জারওয়ান বলেন, মহাকাশ গবেষণার তথ্য অনুযায়ী এবার পবিত্র রমজান মাস ২৯ দিনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রোজা শুরু হতে পারে।
তিনি জানান, খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জির ২০২৬ সাল বা ১৪৪৭ হিজরি সালের পবিত্র রমজানের নতুন চাঁদ ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সংযুক্ত আরব আমিরাত সময় বিকেল ৪টা ১ মিনিটে জন্ম নেবে। তবে সেদিন সূর্যাস্তের মাত্র এক মিনিট পরই চাঁদ অস্ত যাবে। ওই সময় চাঁদের বয়স হবে মাত্র ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট, ফলে খালি চোখে চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব হবে।
পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সূর্যাস্তের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাঁদটি স্পষ্ট দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে ১৯ ফেব্রুয়ারি হতে পারে পবিত্র রমজানের প্রথম দিন। রমজান ২৯ দিনে পূর্ণ হলে আগামী ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) হতে পারে শেষ রোজা এবং ২০ মার্চ (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।
রমজান মাসে রোজার সর্বোচ্চ সময়সীমা হতে পারে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোরফাক্কান এলাকায় সবচেয়ে আগে এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় আল সিলা এলাকায় সবচেয়ে দেরিতে ইফতার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবুধাবিতে রমজানের শুরুতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট। তবে সাহ্রি থেকে ইফতার পর্যন্ত রোজার সময় হবে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট। মাসের শেষ দিকে দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা ১২ মিনিট এবং রোজার সময় বেড়ে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিটে পৌঁছাতে পারে।
ভৌগোলিক অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন অঞ্চলে সাহ্রি ও ইফতারের সময়েও ভিন্নতা থাকবে। খোরফাক্কান ও পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় আবুধাবির তুলনায় প্রায় ৮ মিনিট আগে সাহ্রি ও ইফতার হবে। অন্যদিকে আল সিলা ও আল ঘুওয়াইফাত এলাকায় রাজধানীর তুলনায় প্রায় ১২ মিনিট দেরিতে ইফতার অনুষ্ঠিত হবে। ফলে পুরো দেশে সাহ্রি ও ইফতারের সময়ের পার্থক্য সর্বোচ্চ ২০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।