বাঘাইছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্য হত্যার প্রতিবাদে সোমবার সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ন, ০৯ মে ২০২৬ | আপডেট: ১:০৩ পূর্বাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬


রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম শুকনাছড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত) এর সদস্য হেগেরা চাকমা ওরফে লেত্তবাপ (৫০) নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আগামী সোমবার (১১ মে) দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে অর্ধদিবস সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছে ইউপিডিএফ। শনিবার দুপুরে সাজেকের উজো বাজারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে শুকনাছড়া এলাকায় কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি অবস্থান নেয়। এ সময় হেগেরা চাকমা ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া করে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

স্থানীয়দের দাবি, নিহত হেগেরা চাকমা এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের “কালেক্টর” হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে এবং অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা সংবাদমাধ্যমকে জানান, জ্যাকসন চাকমার নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচজনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ শুকনাছড়া এলাকায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে হেগেরা চাকমাকে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, নিহত হেগেরা চাকমার মরদেহ উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ, পার্বত্য চট্টগ্রামের দূর্গম এলাকা গুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভাতৃঘাতি সংঘাত চলমান রয়েছে, বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় প্রায়ই গুলি, অপহরণ, হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ পাহাড়ে স্থানীয়  জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।