রাঙামাটির কাউখালীতে বায়তুল আমান জামে মসজিদ ভাঙার অভিযোগ
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার গোদার পাড় এলাকায় একটি পুরাতন মসজিদ ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার বিকেলে রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গোদার পাড় এলাকার মুসল্লিরা এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় মুসল্লি আবদুল ছালাম।
লিখিত বক্তব্যে আবদুল ছালাম ও স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, গোদার পাড় বেতবুনিয়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী পুরাতন মসজিদটি ১৯৮৭ সালে নির্মাণের পর থেকে ‘বায়তুল আমান জামে মসজিদ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রায় ২-৩ শতাধিক পরিবার সেখানে জুমার নামাজসহ নিয়মিত নামাজ আদায় করে আসছিলেন।
তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট গোদার পাড় বায়তুল আমান জামে মসজিদ সংলগ্ন জামিয়াতুল শায়েখ জমির উদ্দিন আল ইসলামীয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মসজিদটি দখলে নেয়। পরে রাতারাতি পুরাতন মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয় বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় মুসল্লিরা বলেন, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। বিষয়টি নিয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সমাধানের দাবি জানান তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মুসল্লি মাহাবুব আলম, আব্দুল হামিদ, ইলিয়াস (বেকারি), জাফর সওদাগর, দুলাল মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, মো. সাকিব, রবিউল হোসেন, শাহাদাৎ, মো. নয়ন, মো. সেকান্দরসহ অনেকে।
এ বিষয়ে আলমানার হিল প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারি (চট্টগ্রাম) মো. ফরিদ মুঠোফোনে বলেন, “এটা আমাদের মাদ্রাসার জায়গা। তাই আমরা সেখানে মসজিদ নির্মাণ করছি। আরও কিছু জানতে চাইলে চট্টগ্রামে এসে যোগাযোগ করেন।”
অন্যদিকে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “বায়তুল আমান জামে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। যতটুকু জানি, আলমানার হিল প্রতিষ্ঠানটি সেখানে বড় একটি মসজিদ নির্মাণ করবে। তাদের দাবি জায়গাটি তাদের নিজস্ব।”
তিনি আরও বলেন, “ওই স্থানে পুরাতন মসজিদের জায়গায় নতুন করে ছয়তলা বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণের কথা শুনেছি। তবে পুরাতন মসজিদ ভাঙচুরের অভিযোগটি আমি নিশ্চিতভাবে জানি না।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।