আর্ন এন্ড লিভ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে টাঙ্গাইল মির্জাপুরে দৃষ্টিনন্দন মসজিদের উদ্বোধন
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার রশিদ দেওহাটায় মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন Earn N Live Foundation-এর অর্থায়নে নির্মিত নতুন একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই মসজিদ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর একটি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা পূরণ হওয়ায় এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও গণভোজের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুসল্লি, সমাজসেবক, তরুণ স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল সম্প্রীতি, আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের আবহ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক শাহাজাহান মিয়া এবং সঞ্চালনায় ছিলেন আরাফাত রহমান। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শাহ আল মাসুদ রানা, শাহ আল মামুন, আসাদুজ্জামান রফিক ও জাহিদ অনিকসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনরা।
বক্তব্যে শাহ আল মাসুদ রানা বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন এখনো মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, Earn N Live Foundation সেই উদাহরণগুলোর একটি এবং একটি মসজিদ নির্মাণ কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, বরং এটি একটি সাদাকায়ে জারিয়া।
শাহ আল মামুন বলেন, আগে গ্রামের মানুষকে নামাজ আদায়ের জন্য অনেক দূরে যেতে হতো। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য বিষয়টি ছিল কষ্টকর। নতুন মসজিদ নির্মাণের ফলে সেই দুর্ভোগ দূর হয়েছে বলে তিনি সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জাহিদ অনিক বলেন, মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম শক্তি। তিনি তরুণ প্রজন্মকে এ ধরনের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
মসজিদ উদ্বোধনকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। স্থানীয় মুসল্লি মকলেসুর রহমান বলেন, বহু বছর ধরে এলাকার মানুষ একটি মসজিদের অপেক্ষায় ছিলেন। আগে দূরে গিয়ে নামাজ আদায় করতে হলেও এখন নিজ এলাকাতেই সুন্দর একটি মসজিদ হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, গ্রামের মানুষের জন্য এটি বড় একটি উপহার এবং বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য নামাজ আদায় এখন অনেক সহজ হবে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ফারিদা ইয়াসমিন জেসি বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে Earn N Live Foundation নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তার ভাষ্য, এই মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং এটি হবে মানুষের মিলনকেন্দ্র ও শান্তির প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জন্য ছোট ছোট উদ্যোগও সমাজে বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশু, অসহায় পরিবার এবং শিক্ষা সহায়তা নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির।
পরে মসজিদের খতিব মাওলানা শামসুল হকের পরিচালনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে বিরিয়ানির প্যাকেট বিতরণ করা হয়।
মানবতার সেবায় কাজ করে যাওয়া Earn N Live Foundation দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মসজিদ নির্মাণ, টিউবওয়েল স্থাপন, শিক্ষা সহায়তা, কোরবানী প্রজেক্ট, অসহায় পরিবার সহায়তা এবং এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নানা সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মানবকল্যাণে সংগঠনটির এ ধরনের মহৎ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা আরও শক্তিশালী করবে।