মাহে রমজানকে স্বাগত জানাতে শাবানের শেষ সময়ে করণীয়
সময়ের চাকা ঘুরে আবারও আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আগমনকারী এই মাসটি মুমিনদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক বসন্তকাল, যেখানে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ থাকে।
বিখ্যাত তাবেয়ি হাসান বসরী (র.) রমজানকে একটি আধ্যাত্মিক প্রতিযোগিতার ময়দান হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা রমজান মাসকে তাঁর মাখলুকের জন্য একটি প্রতিযোগিতার ময়দান বানিয়েছেন, যেখানে তারা আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টির দিকে ধাবিত হয়। এতে একদল মানুষ বিজয়ী হয়, আর যারা পিছিয়ে পড়ে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
— (ইবনে রজব হাম্বলি, লাতায়েফুল মাআরিফ, পৃ. ২০৯)
এই আধ্যাত্মিক প্রতিযোগিতায় সফল হতে শাবান মাসের শেষ দিনগুলোতে মানসিক ও আমলি প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন আলেমরা। এ বিষয়ে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম হলো—
দোয়া ও শুকরিয়া আদায়:
রমজান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারা আল্লাহ তাআলার এক মহামূল্যবান নেয়ামত। আল্লাহর রাসুল (সা.) রজব মাস থেকেই দোয়া করতেন—
“আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।”
অর্থাৎ, হে আল্লাহ, আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।
— (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২৫৯১)
রমজান সন্নিকটে এলে বেশি বেশি দোয়া করা এবং এই সুযোগের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রমজানের সুসংবাদে আনন্দ ও মানসিক প্রস্তুতি:
রমজানের আগমনে আনন্দিত হওয়াকে ইমানের লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) সাহাবিদের রমজানের সুসংবাদ দিতেন এভাবে—
“তোমাদের কাছে বরকতময় মাস রমজান এসেছে। আল্লাহ তোমাদের ওপর এর রোজা ফরজ করেছেন। এতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ রাখা হয়।”
— (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২১০৬)
আলেমরা বলেন, রমজান কেবল একটি সময়কাল নয়; বরং এটি জান্নাতে নিজের মর্যাদা বৃদ্ধি ও আত্মশুদ্ধির সর্বোত্তম সুযোগ। তাই এই মাসকে স্বাগত জানাতে শাবানের শেষ দিনগুলো থেকেই মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি।