লংগদু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসক কন্যাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

তারিকুল তারা ( লংগদু)
তারিকুল তারা ( লংগদু) তারিকুল তারা ( লংগদু)
প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ন, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ২:১১ পূর্বাহ্ন, ০৭ মে ২০২৬



রাঙ্গামাটির  লংগদু সরকারী মডেল কলেজের প্রিন্সিপাল এর বিরুদ্ধে (ডাক্তার) মেয়েকে  হত্যা চেষ্টার অভিযোগ করেন স্বয়ং নিজের  মেয়ে ডাক্তার জান্নাত।

ডাক্তার জান্নাত জানান, আমার বাবা ওসমান গণি লংগদু সরকারী মডেল কলেজের প্রিন্সিপাল, তিনি গত ০২/০৫/২০২৬ তারিখে আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ টায় আমার কাছে তার ব্যাক্তিগত কাজের জন্য ২০ লাখ টাকা দিতে বলে,যা আমার পক্ষে এখন সম্ভব নয়। আমি এত টাকা দেওয়ার মত সমর্থ্যবান হয়ে উঠিনি। যখন টাকা দিতে পারবোনা বলি,তখন তিনি আমার স্বর্ণ অলঙ্কার নেওয়ার জন্য জোর করে।  একপর্যায়ে আলমিরা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। না পেরে আলমিরা ভাঙ্গার হাতুড়ি দিয়ে আমাকে এলোমেলো মারা শুরু করে মাথা ও কপাল ফাটিয়ে দেয় এবং আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে৷ যখন আমি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যাই, তখন আমার মা এসে তাকে সরিয়ে দেয়। এর আগেও আমার সংসার নষ্ট করা, আমাকে মানুষের কাছে মানসিক রোগী বলে পরিচয় করে দেওয়া, মারধর সহ নানা ভাবে অত্যাচার করে আসছে যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এসকল ঘটনার সাথে আমার মা একই কলেজের প্রভাষক রোকেয়া বেগম জড়িত। 

আমাকে বিভিন্ন সময় মারার জন্য আজেবাজে ঔষুধ খাবানোর চেষ্টা করতো,যা আমার বাবা এনে দিতো আর আমার মা আমাকে খাবারের সাথে খাবানোর চেষ্টা করতো।

 আমি এসব থেকে বাঁচতে চাই,জীবনের নিরাপত্তা চাই। আমার বাবা আমাকে মানসিক রোগী বলে, তাহলে আমি চেম্বার কি ভাবে করি। আমার কর্তৃপক্ষক কি জানেনা বুঝেনা।  

এছাড়াও ডাক্তার জান্নাত বলেন, অতীতেও যখন আমি সর্বশেষ ডাক্তারি ফাইনাল পরীক্ষা দিবো তখন আমার বাবা আমার পরীক্ষা যেনো দিতে না পারি অনেক চেষ্টা করে  ব্যর্থ হয়।  এরপর যখনি আমি ডাক্তারি কার্যক্রম শুরু করি,তখন আমার বাবা আমাকে বাসায় চেম্বার করে দিবে বলে আমার কর্মরত হাসপাতাল থেকে সবার সামনে জোর করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে আসে। কিন্তু বাসায় এনে তিনি আমাকে পাগল মানসিক রোগী বলে আর চেম্বার করতে দিবেনা বলে জানায়। 

উক্ত  ঘটনার পর থেকে বর্তমামানে আমি গুরুতর অসুস্থ, আমার মাথায় ১০টি সেলাই লেগেছে আমার বিশ্রামের প্রয়োজন। কিন্তু আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য আমি বাড়ি যেতে পারছিনা। আমি এসব বিষয়ে ঘটনার দিন থানায় গেলে স্থানীয় জামায়াত নেতারা সমাধান করবে বলে এখনো পর্যন্ত কিছু করেনি।

 লংগদু সরকারী কলেজের প্রিন্সিপাল ওসমান গণি বলেন,  আমার মেয়ে আসলে পাগল, তার মাথায় সমস্যা সে সবার সাথে এমন আচরণ করে থাকেন। আপনি এসব বিষয় কান দিয়েন না। এগুলো সে মিথ্যা অভিযোগ করতেছে। 

মারামারি বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন,এটা পারবারিক ও বাবা মেয়ের বিষয়।

এসকল বিষয়ে লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত আছি,তবে ভিকটিমের পক্ষ হতে কোন অভিযোগ পত্র না পাওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভিকটিম যদি অভিযোগ দায়ের করে আমরা আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।