রাবিপ্রবি প্রকল্পে পাহাড় কাটায় মামলা; হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ন, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২:২৫ পূর্বাহ্ন, ২৪ মে ২০২৬

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাসে নতুন ভবন নির্মাণের নামে অনুমোদন ছাড়াই এবং অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE) রাঙামাটি অফিস ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ শুক্রবার রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় রাবিপ্রবির প্রকল্প পরিচালকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মুমিনুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ অনুমোদনের আগেই নির্মাণ কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে চারটি তিনতলা ভবন নির্মাণের জন্য মোট ১৪,৪২৯ ঘনমিটার বা প্রায় ৫ লাখ ৯ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটার অনুমতি পাওয়া যায়। কিন্তু প্রকল্প নথিতে দেখা গেছে, বাস্তবে প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটা হয়েছে অর্থাৎ অনুমোদনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ঘনফুট।

ঘটনার পর মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (HRPB) জনস্বার্থে রিট দায়ের করে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর ২০২৫) হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজি ও বিচারপতি রাজি উদ্দিন আহমেদের আদালত রাঙামাটিতে বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো স্থানে পাহাড় কাটার ওপর তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ জারি করেন।

এছাড়া আদালত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ দেন। তিন মাসের মধ্যে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্ট আরও জানতে চেয়েছেন, প্রশাসন এতদিন নীরব কেন ছিল এবং ইতোমধ্যে যে পাহাড় কাটা হয়েছে তা পুনরুদ্ধার বা পুনর্বাসনের (land-filling/rehabilitation) নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অনুমোদনবিহীন ও অতিরিক্ত পাহাড় কাটা পাহাড়ি অঞ্চলে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করে। বর্ষা বা ঝড়ের সময় ভূমিধস, ভবন ধস, ভূমি ক্ষয়, জীববৈচিত্র্য নষ্ট এসব বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসসহ পার্বত্য এলাকায় ভবন নির্মাণে পরিবেশগত প্রভাব যাচাই (EIA), ক্লিয়ারেন্স ও সঠিক অনুমোদন নিশ্চিত করার গুরুত্ব এর মাধ্যমে আবারও সামনে এলো।

রাঙামাটিতে রাবিপ্রবির ভবন নির্মাণ প্রকল্পে পাহাড় কাটার ঘটনা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নয় পুরো পার্বত্য অঞ্চলের জন্য একটি সতর্কবার্তা। উন্নয়ন জরুরি, তবে আইন, পরিবেশ ও দায়বদ্ধতা অমান্য করলে তার খেসারত দিতে হতে পারে কঠিনভাবে। আদালতের নির্দেশনায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্বশীলতার সুযোগ তৈরি হয়েছে এটি পরিবেশ আইন বাস্তবায়ন এবং পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।