রাঙামাটির ভোটের মাঠে দীপেন দেওয়ান; পাহাড়ে বিএনপির সংগঠিত প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি-২৯৯ আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘ সময় পর এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংগঠিত ও দৃশ্যমানভাবে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়েছে। দলটির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ইতোমধ্যে ধারাবাহিক গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন।
আইন পেশায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দীপেন দেওয়ান বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তার সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে রাঙামাটি আসনে তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে বিএনপি।
নির্বাচনী প্রচারণায় দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামের সংবেদনশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, পাহাড়ের শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সকলের সহাবস্থান, পারস্পরিক আস্থা এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা অপরিহার্য। তার অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে পাহাড়ে গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে পাহাড়ি অঞ্চলে আইনের শাসন, নাগরিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও স্থানীয় উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরছেন নির্বাচনী সভাগুলোতে।
এদিকে নির্বাচনী সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত হলেও ভোটের হিসাব নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে দীপেন দেওয়ানের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে তার প্রচারণার গতি আরও বাড়ছে।
বর্তমানে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় সক্রিয় গণসংযোগ চালাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পরিচালিত এসব কর্মসূচিকে দলটির পাহাড়ে সাংগঠনিক পুনরুজ্জীবনের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে রাঙামাটির ভোটের মাঠ। এই প্রেক্ষাপটে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান কেবল একজন প্রার্থী নন—পাহাড়ে বিএনপির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবেই তিনি প্রথম সারির আলোচনায় উঠে এসেছেন।