রাঙামাটি বিনির্মাণে রিকশা প্রতীকে ১২ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:১১ পূর্বাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিকে শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন সৌহার্দ্যের মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে ১২ দফাভিত্তিক সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক। তিনি রাঙামাটি-২৯৯ আসনে রিকশা প্রতীক নিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

ঘোষিত পরিকল্পনার শুরুতেই তিনি বলেন,


সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই হবে আমাদের মূলনীতি

 

লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ আয়োজন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সম্প্রীতির র‌্যালি এবং সামাজিক সংহতি ফোরাম চালুর কথা বলা হয়েছে।

 

শিক্ষায় শতভাগ অর্জনের অঙ্গীকার

 

শিক্ষাকে উন্নয়নের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি শতভাগ শিক্ষার হার অর্জনের লক্ষ্য ঘোষণা করেন। পরিকল্পনায় রয়েছে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃদ্ধি, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা চালু, উপজেলাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা জোরদার, জেলায় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবাসিক ছাত্রাবাস নির্মাণ, প্রতিটি উপজেলায় ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বৃদ্ধি।

 

যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন

 

জীবনমান উন্নয়নে আন্তঃউপজেলা যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে নানিয়ারচর, লংগদু, সাজেক, ঘাগড়া ,চন্দ্রঘোনা ,বাঙ্গালহালিয়া,বান্দরবান, মানিকছড়ি,মহালছড়ি,খাগড়াছড়ি রানীরহাট,কাউখালী সড়ক উন্নয়ন প্রশস্তকরণসহ চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া মাইনিমুখ-বগাচত্তর, বামলেন্ড-এরাবুনিয়া-ভূষণছড়া সংযোগ সড়ক এবং মাইনিমুখ কালাপাণুইজ্জা সেতু নির্মাণের কথাও উল্লেখ করা হয়। দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

 

স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার

 

পরিকল্পনায় রাঙামাটি সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার কার্যক্রম দ্রুত চালু করে পর্যায়ক্রমে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিইউ স্থাপন, নৌ অ্যাম্বুল্যান্স চালু এবং প্রতি তিন মাস অন্তর বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

শিল্পায়ন, কৃষি কর্মসংস্থান

 

কর্ণফুলী পেপার মিল এলাকাকে শিল্পবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে কর্ণফুলী পেপার মিল, চন্দ্রঘোনা রেয়ন মিল ঘাগড়া টেক্সটাইল মিল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু আধুনিকায়নের কথা বলা হয়।

এছাড়া বিসিক শিল্পনগরী, কৃষিপণ্যভিত্তিক বিশেষ কোল্ড স্টোর, এগ্রোভেস্ট ফুড প্রসেসিং জোন এবং মৎস্য আহরণ বন্ধকালীন সময়ে জেলেদের মাসিক ১০০ কেজি চাল সহায়তার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

 

নারী যুব উন্নয়ন

 

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় দুস্থ বিধবা ভাতা বৃদ্ধি, নারী উদ্যোক্তা ঋণ প্রকল্প, পাহাড়ি নারীদের হস্তশিল্প -কমার্সে যুক্তকরণ এবং সেলাই, হাঁস-মুরগি ছাগল পালনের প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়।

যুবসমাজকে খেলাধুলামুখী করতে বিকেএসপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম কালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

পর্যটন পরিবেশ সংরক্ষণ

 

রাঙামাটিকাপ্তাইসাজেক পর্যটন সার্কিট, ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার হোমস্টে প্রোগ্রাম চালুর পাশাপাশি কাচালং নদী ড্রেজিং, পাহাড়ধস প্রতিরোধে বনায়ন, কাপ্তাই লেক দূষণ নিয়ন্ত্রণ বন্যা মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।

 

খিদমতের রাজনীতির বার্তা দিয়ে বলেন,

আমরা ক্ষমতা চাই না, আমরা চাই খিদমতের ময়দানে ইখলাসভিত্তিক নেতৃত্ব। রিকশা প্রতীক সেই আমানতের প্রতীক, যা প্রতিদিন মানুষের বোঝা বইতে ক্লান্ত হয় না।

তিনি আরও বলেন, “একজন খালেস ইসলামী নেতা রিকশার মতোই চাপ নেয়, কষ্ট করে, কিন্তু পথ ছাড়ে না। আমরা আসছি মিথ্যার গ্ল্যামার নয়, সত্যের সরলতা নিয়ে।



শেষে তিনি রাঙামাটির ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “রাঙামাটিতে ভোট দিন রিকশা প্রতীকে যেখানে ইসলাম, ইনসাফ ইবাদতের রাজনীতি একসূত্রে গাঁথা।



বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাঙামাটি জেলা নেতৃবৃন্দ জানান, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে পাহাড়ি জনপদের মানুষের ন্যায়বিচার, শান্তি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।