রাঙ্গামাটিতে হামের প্রাদুর্ভাব নেই, প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ
সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও বর্তমানে রাঙ্গামাটি জেলায় এ রোগের কোনো বিস্তার ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামের রোগী না থাকলেও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অন্যান্য রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। একই সঙ্গে হামের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলায় হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় চার শিশুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. শিবলী শফি উল্লাহ।
তিনি জানান, উপজেলার পোয়পাড়া এলাকায় দুইজন, বেতবুনিয়া সাপনালাপাড়া এলাকায় একজন এবং ঘাগড়া এলাকায় একজন মোট চার শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা যায়। এদের মধ্যে একজনের শরীরে গুটি উঠেছে এবং অন্যদের কয়েকদিন ধরে জ্বর রয়েছে। বর্তমানে সবাই বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।
রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা জানান, হামের সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করা স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। তিনি বলেন, “চার শিশুর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এটি হাম কিনা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তাই এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
তিনি আরও জানান, জেলায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ১১শ’ শিশুদের টিকা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজার ডোজ টিকা মজুত রয়েছে। পাশাপাশি জেলার প্রতিটি উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী রোববার থেকে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হবে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২০ সালের মার্চ মাসে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক এলাকার কয়েকটি গ্রামে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ওই সময় এক সপ্তাহের ব্যবধানে আট শিশুর মৃত্যু হয় এবং প্রায় দুই শতাধিক শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।