রাঙামাটিতে ছাত্রদলের কমিটি ঘিরে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি
দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর রাঙামাটি জেলা শাখার আংশিক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। সোমবার (৪ মে) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।
গত শনিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছিরউদ্দিন নাছির-এর স্বাক্ষরে ২৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মো. অলি আহাদকে সভাপতি, নাঈমুল ইসলাম রনিকে সাধারণ সম্পাদক এবং গালিব হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
কমিটি ঘোষণার পরপরই সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে অছাত্র, বিবাহিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মত দেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
এরই প্রতিবাদে রবিবার (৩ মে) দুপুরে রাঙামাটি জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে কমিটি বাতিলের দাবি জানান, ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাময়িক যানচলাচল ব্যাহত হয়।
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও প্রকৃত ছাত্রদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এদিকে আজ ৪মে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংঘর্ষের আশঙ্কায় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, পদবঞ্চিত ও সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে।
জারিকৃত আদেশ অনুযায়ী, পৌরসভা এলাকা, কাঠালতলী, বনরূপা ও আশপাশের এলাকায় চারজনের বেশি লোকের জমায়েত, মিছিল-সমাবেশ এবং যেকোনো ধরনের অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।