​খাগড়াছড়ির গুইমারায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় পিসিসিপির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০৬ অপরাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৮ পূর্বাহ্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক এলাকায় মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে অবোধ বাঙালি শিশুকে একা পেয়ে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে পাসবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে (২৮ সেপ্টেম্বর) সোমবার দুপুরে বিবৃতি দেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি। বিবৃতিতে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম এই নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ​ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে বড়পিলাক এলাকায় মাদ্রাসা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে শিশুটিকে দা দিয়ে কেটে হত্যার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন চালায় গুইমারা থানার হাফছড়ি ইউনিয়নের সানখোলা পাড়ার বাসিন্দা কংজ মারমার ছেলে খিলু মারমা (৩৫)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী শিশুটিকে প্রথমে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। স্থানীয় সচেতন জনতা ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত খিলু মারমাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।  

​একটি অবোধ শিশুর ওপর এমন জঘন্য আক্রমণ সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, অপরাধীর কোনো জাতিগত, সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না; অপরাধী শুধুই একজন অপরাধী। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ি সন্ত্রাসী বা যুবকদের দ্বারা বাঙালি নারী ও শিশুরা একের পর এক নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হলেও তথাকথিত মানবাধিকারকর্মী এবং জুম্ম সোচ্চার জনগোষ্ঠীর ভূমিকা চরম ধোঁয়াশাপূর্ণ ও নিশ্চুপ। পাহাড় বা সমতলে অন্যান্য ঘটনার সময় যারা মানবাধিকার ও অধিকারের কথা বলে রাজপথ উত্তাল করেন, অথচ বাঙালি শিশু ধর্ষণের পর তাদের এই রহস্যজনক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা তাদের একপেশে নীতি ও দ্বিমুখী আচরণকেই স্পষ্ট করে তোলে। এই ধরনের নিরপেক্ষতাহীন দৃষ্টিভঙ্গি বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উস্কে দেয় এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে ব্যাহত করে।

​পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট দাবিসমূহ:

​১. দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি: পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত ধর্ষক খিলু মারমার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তা: ভুক্তভোগী শিশুটির চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রের খরচে নিশ্চিত করতে হবে এবং তার পরিবারের সুরক্ষা প্রদান করতে হবে।

৩. আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ: পাহাড়ে সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা বিধানে যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে জাতিগত পরিচয় না দেখে আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

​পিসিসিপি পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক নিরাপত্তা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে পাহাড়-সমতলের সব শান্তিকামী নাগরিককে বৈষম্যহীনভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। ভুক্তভোগী শিশুটির সঠিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পিসিসিপি রাজপথে সোচ্চার থাকবে।