রাঙামাটিতে পিতাকে হত্যা: পুত্র ও ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৪ পূর্বাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেকে পিতা শান্তি লাল চাকমাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে তাঁর ছেলে সোহেল চাকমা ও ভাতিজা আলোময় চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণ ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার ভাইবোনছড়া এলাকায় রাতের খাবার শেষে শান্তি লাল চাকমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন আসামিরা। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে ধারালো দা দিয়ে তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর আসামিরা তাঁর গলা থেকে রক্ত পান করেন এবং লাশ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার নয় দিন পর বাঘাইছড়ির কাচালং নদী থেকে শান্তি লাল চাকমার গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া অভিযুক্ত সোহেল চাকমা ও আলোময় চাকমা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। রায়ের সময় সোহেল চাকমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে, মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের ভাতিজা আলোময় চাকমা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পর পলাতক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, এমন পশুবৃত্তসুলভ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য চরম হুমকি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আসামিদের জবানবন্দিসহ সবকিছু রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদ ইকবাল বলেন, নিহতের ছেলে সোহেল চাকমার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তাঁকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধান আসামি আলোময় চাকমা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পরবর্তীতে পলাতক রয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

আদালতসংশ্লিষ্টরা জানান, রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়ে এটিই প্রথম রায়। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।