রাঙামাটিতে জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স, নজর টেকসই পর্যটনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ন, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:০৮ পূর্বাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬


রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘RMSTU National Tourism Conference 2026’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে রাবিপ্রবির একাডেমিক ভবন-১ এর সম্মেলন কক্ষে এই কনফারেন্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কনফারেন্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাবিপ্রবি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান।

দুই দিনব্যাপী কনফারেন্সের প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রাবিপ্রবির ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও কনফারেন্সের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের কনফারেন্স আয়োজনের মাধ্যমে রাঙামাটিতে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবী ও একাডেমিকদের মধ্যে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কনফারেন্সের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পারস্পরিক সহযোগিতা ও কোলাবোরেশনের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশে স্থপতি, নকশাবিদ, নৃতত্ত্ববিদ, বন সংরক্ষক, সাংবাদিকসহ সকল পেশাজীবীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং পর্যটন শিল্প সকলকে একত্রিত করার সক্ষমতা রাখে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি রাঙামাটিতে তাঁর স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণা করেন এবং এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি রাঙামাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।

রাবিপ্রবি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই কনফারেন্সের মাধ্যমে রাবিপ্রবি ক্যাম্পাস পর্যটন বিষয়ক গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের এক মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে পাহাড় ও লেকসমৃদ্ধ রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের পর্যটনের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্রে পরিণত হবে। কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় রাঙামাটির মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং স্থানীয় পর্যটন শিল্পের আমূল পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বক্তব্যের শেষে তিনি কনফারেন্স সফল করতে সহযোগিতার জন্য সকল মিডিয়া পার্টনার, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, পৃষ্ঠপোষক, গবেষক ও অংশীজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হোসেন উদ্দিন শেখর। তিনি রাঙামাটিকে পর্যটন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সিগনিফিকেন্ট অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এ অঞ্চলে ইকো ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন।

“Tourism Tomorrow: Nature’s Next Fleck to Explore” শীর্ষক থিমে আয়োজিত কনফারেন্সের প্লেনারি সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ কামরুল হাসান এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিটাইম ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম। উপস্থাপিত প্রবন্ধ দুটির শিরোনাম ছিল— Reimagining Tourism Development in Bangladesh: Policy Priorities and Strategic Pathways for Sustainable Growth এবং Tourism Research Tomorrow: Introducing a Community-led Research Approach to Sustainability Indicator System।

কনফারেন্সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও কনফারেন্সের কো-চেয়ার মোসা. হাবিবা Vote of Thanks প্রদান করেন। সমাপনী বক্তব্য দেন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কনফারেন্সের সদস্য-সচিব জি এম সেলিম আহমেদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিভাগের প্রভাষক মোঃ নাফিজ মন্ডল ও ফাহিম হোসেন।

আগামী কাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হবে। এদিন কীনোট স্পিচ, ওরাল প্রেজেন্টেশন ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে কনফারেন্সের সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

দুই দিনব্যাপী এই কনফারেন্সে পর্যটন শিল্পে টেকসই উন্নয়ন, ইকো ট্যুরিজম, নীতিনির্ধারণ, পর্যটনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিগ ডেটার ব্যবহার, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ, নদী ও হাওড় অঞ্চল রক্ষা, পর্যটনে কমিউনিটি ও নারীদের সম্পৃক্তকরণ, স্মার্ট ট্যুরিজম এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে।