গুঞ্জন-অভিযোগের মধ্যেই এগোচ্ছে কাউখালীর ২৫ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা সদর থেকে সুগারমিল হয়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নকাজ এগিয়ে চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে দুই প্যাকেজে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কাউখালীবাসীর চট্টগ্রাম যাতায়াতে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ‘চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’-এর আওতায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে কাউখালী উপজেলা সড়কের পুনর্নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় স্থানে আরসিসি ড্রেন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুইটি প্যাকেজে মোট প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
এর মধ্যে সুগারমিল থেকে তারাবনিয়া বৌদ্ধবিহার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এবং তারাবনিয়া বৌদ্ধবিহার থেকে কাউখালী উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে। নির্মাণ শেষে সড়কটির প্রস্থ হবে প্রায় ১৮ ফুট। প্রয়োজন অনুযায়ী সড়কের কিছু অংশে ড্রেন নির্মাণ এবং পিচঢালাইয়ের কাজও করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কাউখালীবাসীর অন্যতম দাবি ছিল এ সড়কটি নির্মাণ ও উন্নয়ন। সড়কটি চালু হলে কাউখালী উপজেলা সদর থেকে সুগারমিল হয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। এতে কাউখালীর পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াত এবং পর্যটন বিকাশে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে সড়কের নির্মাণকাজের মান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে এলজিইডি জানিয়েছে, নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং কোনো মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাঙামাটি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ সরোয়ার বলেন, কাউখালী উপজেলা সদর থেকে সুগারমিল পর্যন্ত সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত করা হচ্ছে। প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে ড্রেনসহ পিচঢালাইয়ের কাজ করা হবে। দুই প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং এতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “রাস্তার কাজের গুণগতমান নিয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এলজিইডির পক্ষ থেকে কাজের মান নিয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।” সড়কটি নির্মাণ শেষ হলে কাউখালী উপজেলার মানুষ এ পথ ব্যবহার করে সরাসরি চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক ইউনুস অভিযোগ করে বলেন, একটি চক্র ভুয়া সংবাদ ও নানা অপপ্রচারের মাধ্যমে তাদের প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি এবং সরকারের উন্নয়নকাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করছে। এতে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন, আমির হোসেন, দিদার হোসেন, মো. আলমগীর ও সম্রাট হোসেন জয়সহ কয়েকজনের ভাষ্য, সড়কটির উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। তাই কোনো ধরনের বিরোধ বা প্রতিবন্ধকতায় কাজ থেমে না গিয়ে দ্রুত শেষ করার দাবি তাদের।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কাউখালী উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে উপজেলা সদর, সুগারমিল ও চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে এর প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত ও কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী সমাধান করে উন্নয়নকাজ অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে।
কাউখালীবাসীর দাবি কোনো ধরনের বিতর্ক বা প্রতিবন্ধকতায় উন্নয়নকাজ যেন বন্ধ না হয়; বরং নির্ধারিত মান বজায় রেখে দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হোক।