পার্বত্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন ও সশস্ত্র গোষ্ঠী নিষিদ্ধের দাবি পিসিএনপির

সোহরাওয়ার্দী সাব্বির
সোহরাওয়ার্দী সাব্বির সোহরাওয়ার্দী সাব্বির
প্রকাশিত: ১:২৮ অপরাহ্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৫ পূর্বাহ্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্প্রতি গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন, পাহাড় থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূল এবং জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলীর মৃধা ভবনে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে জেএসএসের সাম্প্রতিক বিবৃতির প্রতিবাদ এবং শিশির চাকমার সংবাদ সম্মেলনের নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিও জানায় পিসিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হাবীব আজম।

লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের নীতি-নির্ধারণ, সুপারিশ প্রদান ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগকে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়।

তবে পিসিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের দীর্ঘ সময় পরও পাহাড়ে সশস্ত্র সংঘাত, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি। তাদের দাবি, তিন পার্বত্য জেলায় একাধিক সশস্ত্র সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করে তিনটি জাতীয় কমিটির মাধ্যমে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানায় পিসিএনপি। সংগঠনটির দাবি, চুক্তির মূল পক্ষ জেএসএসসহ পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতায় জড়িত সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপির পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন, জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং পাহাড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে ‘লিগ্যাল টাস্কফোর্স’ গঠন।

এছাড়া পার্বত্য জেলা পরিষদে ন্যস্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভাগগুলো পুনরায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে নেওয়া, ১ শতাংশ ‘উপজাতীয় কোটা’র পরিবর্তে পাহাড়ি-বাঙালি সব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অনগ্রসর কোটা’ চালু এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদে জনসংখ্যার অনুপাতে সব জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বিদেশি এনজিওগুলোর প্রকল্প বণ্টন, বাজেট বরাদ্দ ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তদারকির দাবিও জানানো হয়।

শিশির চাকমার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে পিসিএনপি নেতারা বলেন, তিনি পার্বত্য অঞ্চলের সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন। তাঁর বক্তব্যকে তারা প্রত্যাখ্যান করে নিন্দা জানান।

জেএসএসের সাম্প্রতিক বিবৃতিরও প্রতিবাদ জানায় পিসিএনপি। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, পাহাড়ে সশস্ত্র কার্যক্রম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকা অবস্থায় শান্তিচুক্তির কথা বলে জেএসএসের বিবৃতি দেওয়া বিভ্রান্তিকর।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালকে স্বপদে বহাল রাখার দাবি জানিয়ে পিসিএনপি নেতারা বলেন, পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সর্বস্তরের মানুষের সুষম উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা আক্তার, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুর হোসেন, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ পিসিএনপি, পিসিসিপি, পিসিজেপি ও পিসিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে পিসিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় সরকার গঠিত তিনটি জাতীয় কমিটির যেকোনো গঠনমূলক পদক্ষেপে সংগঠনটি পূর্ণ সহযোগিতা করবে।