রাঙামাটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের আহ্বান
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের প্রচারিত সচেতনতামূলক বার্তায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে ভোর ও সন্ধ্যার আগে এ মশার কামড়ানোর প্রবণতা বেশি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, শরীরে লালচে দানা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি ও পাতলা পায়খানার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে এসব উপসর্গের উপস্থিতি দিয়ে এককভাবে ডেঙ্গু নিশ্চিত করা যায় না। তাই জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো জরুরি।
বার্তায় জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্যালাইন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের রস ও স্যুপ খাওয়া যেতে পারে। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর জ্বর কমে যাওয়ার পরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, পাতলা পায়খানা, শরীরের কোনো স্থান থেকে রক্তপাত, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা হাঁটাচলায় কষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ রোগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফুলের টব, ফ্রিজে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাব ও নারিকেলের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল এবং বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তাই এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং জমে থাকা পানি অপসারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে দিনের বেলায়ও মশারি বা উপযুক্ত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সচেতনতামূলক বার্তায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ব্যক্তিগত সতর্কতা যথেষ্ট নয়; পরিবার ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বাড়িঘর ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের প্রচারিত এ বার্তায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।