পাহাড়ের ৩ কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ সচেতন নাগরিক সমাজের
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সুশাসন ও সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সংলাপের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই সরকার ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি’, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি’ এবং ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি’ গঠন করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর জারি করা তিনটি প্রজ্ঞাপনে পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, গুম-খুন প্রতিরোধ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রচলিত আইন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব কমিটিগুলোর ওপর অর্পণ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সচেতন নাগরিক সমাজের ভাষ্য, এসব কমিটি গঠনকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিত্ব সংকুচিত করার কোনো উদ্দেশ্য এতে থাকা উচিত নয়। বরং পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, নাগরিক সুবিধা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সুফল যাতে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সমানভাবে ভোগ করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপত্তার বিষয়টিকে শুধু আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে পাহাড়ে বসবাসরত প্রতিটি মানুষের নাগরিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিদাতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাহাড়ি ও বাঙালিসহ সব জনগোষ্ঠীর মতামত ও অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য রাজনৈতিক প্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ, সিনিয়র নাগরিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, উচ্চপর্যায়ের কমিটিগুলোর কার্যক্রমকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে স্বচ্ছতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কমিটিগুলোর সুপারিশ প্রণয়নের সময় স্থানীয় জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ বাড়ানো এবং পারস্পরিক আস্থা জোরদার করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের জন্য মতপার্থক্য নিরসনে আলোচনার বিকল্প নেই বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়ার উপাচার্য ড. আসিফ মিজান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. মো. আবু তৈয়ব চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুছ, লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, অধ্যাপক হারুন উর রশিদ, এস এম জহিরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন রেদওয়ান সিকদার, ব্যারিস্টার ইলিয়াছুর রহমান, অধ্যক্ষ নুরুল আলম, অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান, ড. মোহাম্মদ মুহিব উল্লাহ, মেজর মাসুদুর রহমান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট কামাল পারভেজ, নাজিমউদ্দিন চৌধুরী এ্যালেন, হাবীব আজম, হাবিবুর রহমান, দিদারুল আলম, মোজাম্মেল হক লিটন, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন সুজন, ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট রাইসুল কবিরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১০২ জন।
বিবৃতির শেষাংশে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, অধিকার, উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে এনে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।