রাঙামাটি-২৯৯ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই : জুঁই চাকমা
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটি–২৯৯ আসনে গণতন্ত্র মঞ্চ সমর্থিত বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জুঁই চাকমা।
একই সঙ্গে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাঙামাটি–২৯৯ আসনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর ভূমিকা ও আচরণকে “রহস্যজনক ও অসৌজন্যমূলক” আখ্যা দিয়ে, বিশ্বাসযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাঙামাটি থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বুধবার (০৭ ডিসেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় কোর্ট বিল্ডিং সংলগ্ন হোটেল কসমসের নিচতলায় (দক্ষিণ পার্শ্বে) বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা (অস্থায়ী) কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুঁই চাকমার নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অমর চাকমা, পার্টির জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মো. আবুল হাশেম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শ্যামল চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী যুব সংহতি রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি পলাশ চাকমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুঁই চাকমা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গত ৪ ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করেছে—এ ঘটনায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁদের সম্মানজনক মুক্তির দাবি জানান।
তিনি বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাঙামাটি–২৯৯ আসনে এখনো কোনো নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয়নি। ভোটার, প্রার্থী ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। ভোটাররা এখনো নিশ্চিত নন, তারা সঠিক সময়ে ভোট দিতে পারবেন কি না।”
রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জুঁই চাকমা বলেন, “নিরপেক্ষতার অর্থ নাগরিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা নয়। জেলার সাধারণ মানুষ মনে করছেন, তিনি কোনো বিশেষ মিশন বাস্তবায়নে রাঙামাটিতে এসেছেন। এ ধরনের আমলাদের কারণে নির্বাচনকালীন যেকোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি—রাঙামাটি–২৯৯ আসনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীকে অবিলম্বে, সম্ভব হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করা হোক।”
প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “ছাত্র-শ্রমিক-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা স্বৈরাচারকে সরিয়েছি। গণতন্ত্র রক্ষায় প্রয়োজন হলে আবারও আন্দোলনে নামবো।”
জুঁই চাকমা অভিযোগ করেন, “২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতো সাজানো ও লোক দেখানো আরেকটি নির্বাচন আয়োজনের লক্ষণ স্পষ্ট। নির্বাচন কমিশন প্রশাসনকে ব্যবহার করে যেনতেন একটি নির্বাচন করতে যাচ্ছে।”
তবে শত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার লক্ষ্যে তিনি ও তাঁর দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান জুঁই চাকমা। তিনি আরও বলেন, তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিশেষ চমক থাকবে।
শেষে তিনি রাঙামাটি–২৯৯ আসনের সকল প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক ও সচেতন থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।