রাঙামাটির তবলছড়িতে সরকারি বাঁধ ও কাপ্তাই হ্রদ দখলের অভিযোগ, নির্মিত হচ্ছে স্থাপনা
রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি এলাকায় সরকারি বাঁধ ও কাপ্তাই হ্রদের অংশ ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা কাউন্সিলর রোকসানা আক্তারের বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তবলছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন স্বর্ণটিলা সংযোগ এলাকার কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী সরকারি বাঁধের একটি অংশে বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে এবং নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে হ্রদের জলাধারের অংশ ভরাটের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি শুধু সরকারি সম্পত্তি দখলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি জলাধার সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী জলসম্পদ, জলাধার ও পরিবেশ সংরক্ষণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং অনুমোদন ছাড়া জলাধারের স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তন, ভরাট বা দখল আইনগত প্রশ্নের জন্ম দেয়।
স্থানীয়দের মতে, কাপ্তাই হ্রদ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাধার, যা জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবেশগত ভারসাম্য, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং পার্বত্য অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অভিযোগ অনুযায়ী হ্রদের অংশ ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে পানি ধারণক্ষমতা, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ, তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে হ্রদের তীর সংরক্ষণ, ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ এবং জনসাধারণের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অথচ অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি সত্যিই সরকারি বাঁধ ও কাপ্তাই হ্রদের সংরক্ষিত অংশে ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ হয়ে থাকে, তাহলে তা দীর্ঘ সময় প্রশাসনিক নজরদারির বাইরে কীভাবে রয়ে গেল। তারা মনে করেন, সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর নিয়মিত তদারকি এবং কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের অভিযোগের সুযোগ কমে আসত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনিক বিলম্ব বা নিষ্ক্রিয়তা অনেক সময় অবৈধ দখল ও নির্মাণকে উৎসাহিত করে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, ভূমি ও জলাধারের প্রকৃত মালিকানা যাচাই, প্রয়োজন হলে জরিপ পরিচালনা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাবেক মহিলা কাউন্সিলর রোকসানা আক্তারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। উল্টো অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন । ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ভূমি প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, জলাধার সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ক্ষতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কাপ্তাই হ্রদ ও সরকারি জলাধার এলাকায় এ ধরনের দখল ও ভরাট রোধে স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।