মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন: তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাল রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি)

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫:২৫ অপরাহ্ন, ০৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪১ অপরাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬


রাঙামাটির লংগদু উপজেলার রাজনগর জোন (৩৭ বিজিবি)-এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে উত্থাপিত ভূমি দখলের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি)।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত ৫ জুন ২০২৬ রাঙামাটি কোর্ট সংলগ্ন গাউছিয়া মার্কেটস্থ অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদারের চেম্বারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্যের যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর।

বিজিবির দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে রাজনগর ব্যাটালিয়ন বর্তমান স্থানে ১৬ জুলাই ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যাটালিয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি সরকারি বিধিমালা ও প্রচলিত ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুসরণ করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জোরপূর্বক বা বেআইনিভাবে কোনো জমি দখলের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

বিজিবি আরও জানায়, অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে ১৫০ একর জমি দখল এবং ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও পরিশোধের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার (এলএ শাখা) ওপর ন্যস্ত। বিজিবি সরাসরি কোনো জমির মূল্য বা ক্ষতিপূরণ প্রদান করে না।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত ৮৫ দশমিক ৫৫ একর জমির মধ্যে ৭৫ দশমিক ৭৫ একর জমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, লংগদু কর্তৃক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে সরেজমিনে পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই শেষে খাস জমি হিসেবে প্রত্যয়ন করা হয়েছে। বাকি ৯ দশমিক ৮০ একর জমি, যা ১৪ জনের মালিকানাধীন ছিল, ১১ জুন ২০০৭ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কর্তৃক রাজনগর ব্যাটালিয়নের অনুকূলে অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ থেকে ২৬ ডিসেম্বর ২০১২ সালের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত দলিল, রশিদ ও ব্যাংক চেক নম্বর সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেছে বিজিবি।

এছাড়া ব্যাটালিয়ন সদর এলাকার ভেতরে অভিযোগকারীদের কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি, ফলজ বা বনজ গাছ কিংবা স্থাপনা নেই মর্মে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও হেডম্যানদের প্রত্যয়নপত্রও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানানো হয়।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণপ্রাপ্ত ১৪ জনের মধ্যে আয়েশা বেগম নামে একজন ১ লাখ ১ হাজার ২৭৪ টাকা ক্ষতিপূরণ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ সালে ২ একর জমির মালিকানা দাবি করে রাঙামাটির যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

বিজিবির দাবি, প্রাপ্ত নথিপত্র ও তথ্যাদি পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, ক্ষতিপূরণ গ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ প্রবঞ্চনার আশ্রয় নিয়ে পুনরায় দাবি উত্থাপন করছেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও বিজিবির মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এ ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ ও অভিযোগের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে বিজিবি সর্বসাধারণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্বারা প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের স্বার্থে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি)।