অনুমোদনের আগেই পাহাড় কাটা? কাউখালীর ২৪ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
রাঙামাটির কাউখালীতে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, পুরোনো সামগ্রী পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই পাহাড় কাটার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন কাউখালী সুগার মিল সড়কের প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে এ প্রকল্প। দুই প্যাকেজে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স। প্রকল্পের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
তবে প্রকল্পের কাজ নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত কারিগরি নির্দেশনা ও নির্মাণমান অনুসরণ না করেই এগিয়ে চলছে কাজ।
স্থানীয়দের দাবি, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মানের বালির পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরোনো রাস্তার কার্পেটিংয়ের ব্ল্যাকপার্ট পুনরায় সাব-বেস হিসেবে ব্যবহার, নিম্নমানের ইট দিয়ে ম্যাকাডম তৈরি এবং আরসিসি কাজের নিচে প্রয়োজনীয় ইটের সলিং না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া কাজে নিম্নমানের পাথর ও পুরোনো ঢালাই ভাঙা উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন তারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নির্মাণকাজে যথাযথ তদারকি না থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে।
এদিকে সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য পাহাড় কাটার বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে পরিবেশগত উদ্বেগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন পাওয়ার আগেই পাহাড় কাটার কাজ শুরু করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের কয়েকটি অংশে পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে মাটি ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলে এসব স্থানে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদার্সের প্রতিনিধি ও কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে কথা বলবেন জানিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এ বিষয়ে এলজিইডি জানিয়েছে, পাহাড় কাটার অনুমোদনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো সেই অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তর রাঙামাটি কার্যালয় সূত্র জানায়, পাহাড় কাটার বিষয়ে এলজিইডি রাঙামাটি অফিস থেকে একটি আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। এখনো কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পাহাড় কাটার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এলজিইডিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফি আহমেদ বলেন, “কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোথাও কোনো গরমিল হলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। অভিযোগের ভিত্তিতে কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন হলেও উন্নয়নের নামে পরিবেশ ও জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। তারা প্রকল্পের নির্মাণমান, পাহাড় কাটার অনুমোদন ও পরিবেশগত বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।