সমন্বয় ছাড়াই সড়ক কেটে পানির পাইপলাইন; রাঙামাটিতে পাবলিক হেল্থের কাজে বিতর্ক
রাঙামাটি শহরের অভ্যন্তরে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (পাবলিক হেল্থ) একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সড়ক বিভাগ) ও রাঙামাটি পৌরসভার সঙ্গে কোনো ধরনের পূর্ব সমন্বয় বা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই রাঙামাটি শহরের প্রধান সড়কের পাশ ঘেঁষে পানির পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এ নিয়ে দপ্তর গুলোর মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, যা নগর উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা তুলে ধরছে।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাদের অধিভুক্ত কোনো সড়কে কাটাকাটি বা অবকাঠামোগত কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের লিখিত অনুমতি ও পারস্পরিক সমন্বয় বাধ্যতামূলক। অথচ আলোচিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এখনো পর্যন্ত সড়ক বিভাগের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন গ্রহণ করেনি। বিষয়টি নিয়ে কোতোয়ালি থানা জিডি করেছেন বলছেন সড়ক বিভাগ।
এ বিষয়ে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, সমন্বয় সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত একাধিকবার মৌখিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হলেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর তা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক কাজ অব্যাহত রেখেছে। তার দাবি, এতে সড়কের স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও স্বাভাবিক যান চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে পৌরসভা সূত্রে জানায়, পৌরসভার সাথেও কোনো ধরণের সমন্বয় করেনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটি। শহরের ১নং ওয়ার্ড জালিয়া পাড়া এলাকায় পৌরসভার নির্মানধিন নতুন সড়কটিও কেটে এই পাইবলাইন স্থাপন করছেন তারা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, রাঙামাটি শহরের মূল সড়কের একাধিক স্থানে রাস্তার পাশ খুঁড়ে পানির পাইপ স্থাপন করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও খোলা অবস্থায় মাটি ফেলে রাখা হলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী কিংবা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড নেই, যা পথচারী ও যানবাহনের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।
সচেতন মহলের মতে, উন্নয়নের নামে এ ধরনের সমন্বয়হীন কর্মকাণ্ড সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়ক ধ্বস, দীর্ঘস্থায়ী যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিতে পারে। তারা মনে করছেন, দ্রুত দপ্তর গুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া বলেন, সমন্বয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী ১৪ জানুয়ারি সড়ক বিভাগের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে পরিকল্পিতভাবে কাজ পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা হতে হবে পরিকল্পিত ও সমন্বিত। অন্যথায় এ ধরনের অব্যবস্থাপনার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে বলে তারা সতর্ক করেন।