দুর্যোগ পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই মনিটরিং করছেন: প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, দেশের চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। কোথায় কী ধরনের ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সে বিষয়ে তিনি নিয়মিত নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবার (রাত) রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী এলাকার লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমের হলরুম সংলগ্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, "দুর্যোগের সার্বিক বিষয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই মনিটরিং করছেন। এ বিষয়ে তিনি আমাদের সবাইকে দৌড়ের ওপর রেখেছেন। কোথায় কী করলে ভালো হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কেও তিনি অবহিত আছেন।"
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড়ধস ও বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার যতদিন প্রয়োজন ততদিন থাকবে। তিনি বলেন, "অসহায় মানুষের যতদিন সহযোগিতা লাগবে, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে। তিন মাস লাগলে তিন মাস সহায়তা দেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।"
পাহাড়ধসের কারণ প্রসঙ্গে এম ইকবাল হোসেইন বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পেছনে মানুষের কর্মকাণ্ডই অনেকাংশে দায়ী। তিনি বলেন, "আমরাই পাহাড়ের গাছ কেটে ফেলি, মাটি সরিয়ে ফেলি। এর ফলেই পাহাড়ধসের ঘটনা বাড়ছে। হাজার হাজার বছর ধরে এখানে এভাবে পাহাড়ধস হয়নি, এখন হচ্ছে কেন? মানুষ প্রকৃতির ওপর হস্তক্ষেপ করে পরিবেশ ধ্বংস করছে। এই সংকট মোকাবিলা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সবাইকে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন হতে হবে। পরিবেশ নষ্ট না হলে অনেক দুর্যোগই এড়ানো সম্ভব।"
এ সময় রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টোসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।