ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ খুঁটি, দুর্ঘটনার অপেক্ষায় রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬


রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কোয়ার্টারের সামনে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ভেঙে বৈদ্যুতিক তারা সহ  ঝুলে রয়েছে বিদ্যুৎ খুঁটির একটি অংশ। ভাঙা অংশটি গাছের সঙ্গে হেলে পড়ে আছে, আর খুঁটির সঙ্গে থাকা বৈদ্যুতিক তারগুলোও রয়েছে এলোমেলো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো হলেও এখনো ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়া অংশ বা বৈদ্যুতিক তার থেকে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। প্রশ্ন উঠেছে দুর্ঘটনা ঘটার পরই কি নড়বে বিদ্যুৎ বিভাগের টনক?

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষক কোয়ার্টারের সামনে বিদ্যুৎ খুঁটির একটি অংশ মূল কাঠামো থেকে ভেঙে আলাদা হয়ে গাছের সঙ্গে হেলে ঝুলে রয়েছে। খুঁটির সঙ্গে থাকা একাধিক বৈদ্যুতিক তারও এলোমেলোভাবে একটির সঙ্গে আরেকটি জড়িয়ে ঝুলে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই স্থানের পাশ দিয়েই নিয়মিত চলাচল করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীসহ স্থানীয়রা। ফলে সামান্য ঝড়ো বাতাস, ভারী বৃষ্টি কিংবা অন্য কোনো কারণে ঝুলে থাকা অংশটি নড়ে বা ছিঁড়ে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ঝুঁকিটি নতুন নয়। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে একই অবস্থায় পড়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কোয়ার্টারের সামনে এমন ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক অবকাঠামো থাকলেও তা অপসারণ বা মেরামতে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় প্রশ্ন উঠছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীলতা নিয়ে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপরও কেন দীর্ঘ সময় ধরে ঝুঁকিটি বহাল রয়েছে এ প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

একটি সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ঠেকাতে যেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটির ভাঙা অংশ দিনের পর দিন ঝুলে থাকা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী কিংবা পথচারী যদি এর কারণে দুর্ঘটনার শিকার হন, তখন দায়ভার নেবে কে এ প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।

প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে যাওয়ার পর দায় নির্ধারণের চেয়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঝুঁকি অপসারণ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা সচেতন মহল।

একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সামনে বিদ্যুৎ খুঁটির অংশ ভেঙে ঝুলে থাকার বিষয়টি শুধু একটি কারিগরি ত্রুটি নয়; এটি জননিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। বিষয়টি জানার পরও যদি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে কেন নেওয়া হয়নি সেই প্রশ্নেরও জবাবের প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার অপেক্ষায় না থেকে অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটির ভাঙা অংশ অপসারণ, প্রয়োজনীয় মেরামত এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ নিরাপদ করা হোক। পাশাপাশি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পরও কেন দীর্ঘদিন সমাধান হয়নি, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন মনে করছেন সচেতন মহল।